মসজিদে প্রতিদিন ইফতারি করানো কতটা যৌক্তিক? কারা এখানে ইফতারি করার যোগ্য?
রমজান মাস দয়া, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসে মুসলমানদের মধ্যে একটি সুন্দর সংস্কৃতি হলো মসজিদে ইফতারির আয়োজন করা।
অনেক জায়গায় প্রতিদিন মসজিদে বড় আকারে ইফতারি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—
এটি কতটা যৌক্তিক ও কার্যকরী? কারা এখানে ইফতারি করার প্রকৃত যোগ্য?
ইফতার করানোর ফজিলত-
ইসলামে রোজাদারকে ইফতার করানোর বিশেষ সওয়াব রয়েছে। হাদিসে এসেছে—
“যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ঐ রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমবে না।”
— (তিরমিজি)
এই কারণে অনেকেই মসজিদে ইফতারির আয়োজন করে থাকেন, যা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ।
মসজিদে ইফতারির ইতিবাচক দিক
মসজিদে ইফতারির মাধ্যমে—
* গরিব ও অসচ্ছল মানুষ উপকৃত হতে পারে
* পথচারী ও মুসাফিররা সহজে ইফতার করতে পারে
* মুসল্লিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়
* মসজিদকে কেন্দ্র করে সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হয়
তাই সীমিত ও পরিকল্পিতভাবে মসজিদে ইফতারি আয়োজন করা অবশ্যই প্রশংসনীয়।
কিন্তু কিছু বাস্তব সমস্যাও আছে
বাস্তবে অনেক জায়গায় দেখা যায়—
* সচ্ছল ব্যক্তিরাও মসজিদের ইফতারিতে ভিড় করেন
* প্রকৃত গরিব মানুষ লজ্জায় আসতে পারে না
* খাবারের অপচয় হয়
* শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত ভিড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়
* অনেক সময় মসজিদের পরিবেশ ইবাদতের পরিবর্তে খাবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে
এই কারণে বিষয়টি সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যভিত্তিক হওয়া জরুরি।
কারা মসজিদের ইফতারির জন্য বেশি উপযুক্ত?
সাধারণত মসজিদের ইফতারি এসব মানুষের জন্য বেশি উপযোগী—
* মুসাফির (ভ্রমণকারী)
* গরিব ও অসচ্ছল মানুষ
* পথচারী যারা বাড়ি পৌঁছাতে পারবে না
মাদরাসার ছাত্র
* মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম
* কর্মজীবী মানুষ যারা সময়মতো বাড়ি যেতে পারে না
কারা সাধারণত মসজিদের ইফতারির জন্য উপযুক্ত নয়?
# আশেপাশের সচ্ছল মানুষ
# যারা সহজেই নিজের বাড়িতে ইফতার করতে পারে
# শুধু ফ্রি খাবারের জন্য আসা লোকজন
# অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের বড় দল যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে
সবচেয়ে কার্যকর সমাধান
অনেক আলেমের মতে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি হতে পারে—
° মসজিদে সহজ ইফতার (খেজুর, পানি, হালকা খাবার)
° গরিব পরিবারের কাছে ইফতারি পৌঁছে দেওয়া
° সপ্তাহে ১–২ দিন বড় আয়োজন
° প্রয়োজনে টোকেন বা তালিকা পদ্ধতি
সর্বোপরি
মসজিদে ইফতারির আয়োজন অবশ্যই সওয়াবের কাজ। তবে সেটি যদি পরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল এবং প্রকৃত অভাবীদের কেন্দ্র করে করা হয়, তাহলে এর উপকারিতা সবচেয়ে বেশি হবে।
রমজানের প্রকৃত শিক্ষা হলো—
নিজে খাওয়ার পাশাপাশি অন্যের অভাব বুঝে তাকে সহযোগিতা করা।

Comments
Post a Comment